Art & Culture

গৌতমবুদ্ধের কথা (Gautam Buddha)

Gautam Buddha

———— শান্তশ্রী

Agartala, May 18, 2019: দিব্যজ্ঞান লাভ করে গৌতম হোলেন গৌতমবুদ্ধ। জ্ঞানের আলোকপ্রাপ্ত বলেই তিনি মৃত্যুর স্তব্ধতা নেমে আসার আগে শিষ্যদের বলে গিয়েছিলেন —-‘তোমরা নিজের মধ্যেই আলোর সন্ধান করো। এছাড়া আর কোনো আলো নেই। ‘
——
গৌতমবুদ্ধের জন্ম তারিখ কোথাও লেখা নেই। মৃত্যুর সময় তিনি বলেছিলেন তাঁর বয়স আশি বছর। এর থেকে অনুমান করা হয় যে, খ্রীষ্টের জন্মের ৫৬৩ বৎসর আগে বুদ্ধের জন্ম হয়েছিলো।
—–
বুদ্ধ চাইতেন, যে সাধারণ মানুষ নিজেদের বিচার বুদ্ধি, অন্তরের আলো, ভালো মন্দ কর্মের পরিণতি —জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়েই বুঝে নিক।
—-
বুদ্ধের বাণীই বুদ্ধের জীবন।।

বুদ্ধের কাছে যারাই আসতেন, তিনি তাঁদের সকলকেই সমভাবে দেখতেন। —একবার কোশলের রাজা প্রসেনজিত্ বুদ্ধকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন —-যিনি সমস্ত জাগতিক বন্ধন ছিন্ন করতে পারেন, তিনিই প্রকৃত মহাপুরুষ। কিন্তু তাঁকে চিনবো কি করে?
—বুদ্ধ উত্তর দিলেন –রাজন্, তুমি একজন গৃহস্থ, ভোগ ঐশ্বর্যে সদাই লিপ্ত। তোমার শয়নগৃহ সন্তানে পূর্ণ, তুমি স্বর্ণ রৌপ্যের উপহার গ্রহণ করেছো –তোমার পক্ষে মহাপুরুষ চেনা কঠিন।।

অষ্টাঙ্গিক মার্গে জীবন ধারণের একটি বিশেষ পদ্ধতির কথা বুদ্ধ বলেছেন।
—সম্যক দৃষ্টি /সম্যক সংকল্প /সম্যক বাক্/সম্যক কর্ম /সম্যক জীবিকা /সম্যক স্মৃতি /সম্যক ব্যায়াম / সম্যক ধ্যান /—-এই হোল অষ্টাঙ্গিক মার্গ।।
—-
মানুষের যন্ত্রণা সম্বন্ধে সচেতন থাকাই হোল সম্যক দৃষ্টি।
—–পার্থিব বস্তুর প্রতি অত্যধিক বাসনা ও আকর্ষণ পরিত্যাগ করাই হোল সম্যক সংকল্প।
—-মিথ্যা বলা,পরনিন্দা করা, অশালীন ভাষা প্রয়োগ এবং অসংলগ্ন বাক্যালাপ পরিহার করা ই হোল সম্যক বাক্।।
—-অপরের প্রাণ হরণ করা, যৌন লালসা, অপরের কাছ থেকে উপহার ছাড়া কোন দ্রব্য গ্রহণ —এগুলি থেকে বিরত থাকাই হোল সম্যক ক্রিয়া।।
—-প্রাত্যহিক জীবনে ন্যায়সঙ্গত ভাবে অর্থ উপার্জন করাই হোল সম্যক জীবিকা।।
—-
সম্যক ব্যায়াম হোল -মানুষ তার মনের অশুভ ভাবনার দমন করবে। মনে যাতে শুভ ও মঙ্গল চিন্তার উদয় হয়, নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে তারই চেষ্টা করবে।।
—–সম্যক স্মৃতি মানে সমগ্র চিন্তা, অনুভূতি এবং আচরণের উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে।
—-
সম্যক ধ্যানে, মানুষকে গভীরভাবে চিন্তার অভ্যাস করতে হবে। যার ফলে মন ধাপে ধাপে চিন্তার ঊর্দ্ধতর স্তরে পৌছাবে।
—-
আড়াইহাজার বছর আগে বুদ্ধ ঘর ছেড়ে বৃহত্তর পৃথিবীতে বেরিয়ে পড়েছিলেন। তিনি খুঁজতে চেয়েছিলেন মানুষের দুঃখের স্বরূপ,এবং সেই দুঃখ থেকে মুক্তির উপায়। তাঁর জীবন যেন একটা সুদীর্ঘ অন্বেষা।।
—-
তিনি বলে গেছেন —-
”আমি তোমাদের পথ দেখাতে পারি। কিন্তু সে পথে তোমরা কি ভাবে কতোদূর পর্যন্ত যাবে, তা তোমাদের ই ভেবে ঠিক করতে হবে। নিজেদের মনের মধ্যে অন্বেষণ করো, তোমাদের অন্তরের আলোই তোমাদের পথ দেখাবে।।
—–
আজকের জীবনে বুদ্ধের উপদেশ ও বাণীর তাত্পর্য আমাদের নিজেদের ই খুঁজে নিতে হবে।।

To Top